নানা গুণে ভরপুর জাম্বুরা

জাম্বুরা একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে হজমের উন্নতি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পেশির শিরটান কমাতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন, খনিজ উপাদান, পটাশিয়াম, আঁশ, ভিটামিন বি৬ এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।

গুণাগুণ: প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য জাম্বুরায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালোরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলি গ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রো গ্রাম, আয়রন ০.২ মিলি গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলি গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম।

জাম্বুরার স্বাস্থ্য উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: একটি জাম্বুরায় দৈনিক চাহিদার ৬০০ শতাংশ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি এসকরবিক অ্যাসিডের ভালো উৎস যা দ্রুত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে যা শ্বেত রক্ত কণিকার কার্যক্রম বাড়ায় এবং ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে।

জাম্বুরা ঠান্ডা, সর্দি-জ্বর জনিত সমস্যার জন্য খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

হজমে সহায়ক: এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। একটি মাঝারি আকারের জাম্বুরাতে দৈনিক চাহিদার ২৫ শতাংশ আঁশের চাহিদা পূরণ করে। পর্যাপ্ত আঁশ স্বাস্থ্যসম্মত হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: জাম্বুরা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। দৈনিক চাহিদার ৩৭ শতাংশ এর মাধ্যমে পূরণ করা যায়। পটাশিয়াম এক ধরনের ভ্যাসোডিলেটর এটি রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং দেহে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

ওজন কমায়: জাম্বুরায় ‘চর্বি পোড়ানোর এনজাইম’ উপাদান রয়েছে। যা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পেশি মোচড়ানোর প্রতিরোধে: পটাশিয়াম শরীরে ফ্লুইডের ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পেশি মোচড়ানো রোধ করে এবং পেশিকে করে তোলে শক্তিশালী।

হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে: এতে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম রয়েছে। এতে থাকা খনিজ উপাদান হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

বয়স ধরে রাখে: জাম্বুরায় থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেল প্রতিরোধ করে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা হতে দেয় না, বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মুখের যত্নে: জাম্বুরায় থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা দেহে কলা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং কোষ মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মুখের মাড়ি ও ভেতরের ত্বককে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং শক্তিশালী করে।

আরও পড়ুন

ক্যান্সার প্রতিরোধে করলা
করলা খেতে ভীষণ তিতা অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর। ইংরেজিতে এ জন্য তরকারিটির নাম বিটার মেলন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অপছন্দনীয় এই সবজিটিই দূর করতে পারে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। বাংলাদেশের বারডেম হাসপাতালের গবেষণায়ও ইতিপূর্বে ডায়াবেটিস রোগে করলার ভূমিকার কথা বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

এ ছাড়া করলা দূর করে নানা ধরনের মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। যদিও এর তেতো স্বাদের কারণে কারও মুখে রোচে না, কিন্তু শুধু স্বাদের কথা ভেবে স্বাস্থ্যে উপকারিতা ও মিঠাগুণের কথা একেবারে ভুলে বসলেও হবে না।

দ্য নেভাডা সেন্টার অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড অ্যান্টি এইজিং মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ড. ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার ও তার সহযোগীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, করলা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তিনি তার নতুন গবেষণায় দেখতে পান, করলার রস পানিতে মাত্র ৫ শতাংশ মিশ্রিত হয়, যা প্রমাণ করে এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

করলার প্রায় ৯০-৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। দ্য ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর একটি গবেষণায় দেখা যায়, করলা অগ্ন্যাশয়ের টিউমার প্রায় ৬৪ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *