বয়সের ছাপ মুছতে সাতটি জাদুকরী ফেসপ্যাক

বয়স সবাই ধরে রাখতে চায়। কিন্তু বয়স কি ধরে রাখা যায়? আজ হোক বা কাল, বয়স বাড়বেই। আর বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকৃতিকভাবে বয়সের ছাপ চেহারায় পড়বেই পড়বে। চোখের নিচে ভাঁজ, বলি রেখা, ত্বক ঝুলে যাওয়া এগুলো বয়সের ছাপ(Age impression) এর লক্ষণ। তবে অল্প বয়সেই অনেকের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যায় আর এই ছাপ লুকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় কত না এ্যান্টি এজিং প্রসাধনী। এসব ব্যবহারে আপনার উপকার হোক বা না হোক, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিন্তু আপনার ত্বক ঠিকই ভোগ করে, যার ফলে ত্বকে দেখা যায় নানা সমস্যা। তাই আসুন, আজ জেনে নিই বয়সের ছাপ দূরে করার প্রাকৃতিক কিছু উপায়।
১) শসার প্যাক
শসাতে সিলিকা নামক একটি উপাদান আছে যা ত্বকের চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে । ৩ চা চামচ শসার পেষ্ট, ১ চা চামচ ডিমের সাদা অংশ, ২ চা চামচ লেবুর রস(Lemon juice), ২ চা চামচ পুদিনা পাতার রস, পর্যাপ্ত পরিমাণে আপেলের পেষ্ট দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি সারা মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২) দুধ এবং কোকো পাউডার
২ টেবিলচামচ কোকো পাউডার এবং ১ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। ভালোভাবে মুখে লাগান। শুকানোর জন্য ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দুধ এবং কোকো পাউডারের প্যাকটি ত্বকের বলিরেখা(Bolero) দূর করে ত্বককে করবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।

৩) কলার প্যাক
কলাতে এমন কিছু উপাদান আছে যা বয়সের ছাপ দূর করে থাকে। মাঝারি আকারের একটি কলার পেষ্ট, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ ক্রিম দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মুখে, ঘাড়ে ভালভাবে লাগান। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪) আলুর প্যাক
১ টি আলুর পেষ্ট, ২ টেবিল চা চামচ আপেলের পেষ্ট দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি ভালো ভাবে ঘাড়, মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বককে ন্যাচারাল গ্লো দেয় এবং নিস্তেজ ত্বককে উজ্জ্বল করে থাকে।

৫) ডিম এবং মধুর প্যাক
২ টেবিল চামচ ডিমের সাদা অংশ, ১ চা চামচ মধু(Honey) মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে মেখে প্যাকটি শুকানোর জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পান দিয়ে মখ ধুয়ে ফেলুন। ডিমের গন্ধ দূর করার জন্য কয়েক ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৬) পেঁপে এবং টক দই
২ টেবিল চামচ পেঁপের পেষ্ট এবং ২ টেবিলচামচ টক দই(sour yogurt) মিশিয়ে একটি পেষ্ট তৈরি করে নিন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপে ত্বকের মৃত কোষ দূর করে থাকে।

৭) ওটমিল এবং মধুর প্যাক
সমপরিমাণ মধু এংব ওটমিল মিশিয়ে নিন। মুখে ভাল ভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন

ফর্সা হওয়ার ক্রিম লাগালেই সর্বনাশ!

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে তরূণ-তরুণীরা মাখেন ফর্সা হওয়ার ক্রিম। কিন্তু এ ক্রিমে আসলেই কী কোনো উপকার হচ্ছে? নাকি অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ?

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এমনই তথ্য জানানো হয়েছে। ছোট থেকে কালো রং ফর্সা করার জন্য ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখতে শুরু করে অনেক কিশোর-কিশোরী। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখার ফলে ত্বক শুকিয়ে গিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ত্বক বিশেষজ্ঞ সন্দীপন ধর আনন্দবাজারকে জানান, ফর্সা হওয়ার জন্য যে ক্রিম মাখা হয় সেটার মাধ্যমে শুরুতে কিছুটা পরিষ্কার লাগলেও বার বার মুখে লাগানোর ফলে কালচে ছোপ পড়ার পাশাপাশি মুখে গলায় হাতে বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জি, র‍্যাশ, ব্রন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুকিয়ে গিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফর্সা হওয়ার ক্রিমে মার্কারি, লেড, স্টেরয়েড, নানান প্রিজার্ভেটিভসহ অজস্র রাসায়ানিক থাকে, যা আমাদের ত্বকের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাই ত্বক বিশেষজ্ঞরা প্রায় সময় এই ক্রিম মাখতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এখনও সচেতনতা তৈরি হয়নি, বরং এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৯ সালে ভারতে ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্যবসা ছিল ৩০০০ কোটি টাকার।

বিশ্বের বৃহত্তম বিপণন গবেষণা জার্নাল ‘রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটস’-এ প্রকাশিত গবেষণায় জানা গেছে, ২০২৩ সালে ভারতে ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্যবসা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০০ কোটি টাকায়।
এ বিষয়ে সন্দীপন জানান, প্রত্যেক মানুষ আলাদা আলাদা ত্বকের রং নিয়ে জন্মায়। পৃথিবীর কোনও ক্রিম বা লোশনের সাধ্য নেই সেই রংকে ফর্সা করে দেওয়ার। প্রত্যেক মানুষ যে রং নিয়ে জন্মেছে, সেই রং ফর্সা করা যায় না। তবে ত্বকের রং সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবে কালচে হয়ে যায়। ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখলে কালো হওয়া আটকানো যায় না।

ফর্সা হওয়ার ক্রিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজনেজ সিক্রেটের নাম করে সব কোম্পানিই ফেয়ারনেস ক্রিমের উপাদান সম্পর্কে ক্রেতাদের অন্ধকারে রাখে। আদতে এগুলির মূল উপাদান হাইড্রোক্যুইনোন, হাইড্রক্সিইথাইল ইউরিয়া, ফেনক্সিইথাইল, ট্রেটিনয়েন, স্টেরয়েড এবং মার্কারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *